প্রকাশ :
দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। সরকারের আশা, আগামী ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে দেশের বিমান পরিবহন খাতে শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়।
একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বাড়ানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং। সহজ করা হচ্ছে ভিসা কার্যক্রম। চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ই-ভিসা, মেডিক্যাল (এমটি) ভিসা ও রিলিজিয়াস ট্যুরিস্ট (আরটি) ভিসা। পাশাপাশি কক্সবাজারসহ সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যগুলোর উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
এভিয়েশন ও পর্যটন খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে ঢাকা পোস্ট-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
আফরোজা খানম: অবশ্যই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, বহর আধুনিকায়ন এবং সেবার মান উন্নয়নে একযোগে কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনায় ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এ য়ারলাইন্সের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার রোডম্যাপ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি নতুন রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য স্পষ্ট— বাংলাদেশের পতাকা আরও বেশি আন্তর্জাতিক আকাশে উড়বে, আরও বেশি আস্থা নিয়ে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকারের রোডম্যাপ কী?
আফরোজা খানম: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আমাদের জাতীয় ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার। এটি শুধু একটি এয়ারলাইন্স নয়, দেশের মর্যাদা ও আস্থার প্রতীক। দীর্ঘদিন দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের সরকারের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি, তবে এরই মধ্যে সংস্কারের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
আমাদের রোডম্যাপ তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত— গভর্ন্যান্স, বিজনেস স্ট্র্যাটেজি এবং সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন। গভর্ন্যান্সে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজনেস স্ট্র্যাটেজিতে নতুন সম্ভাবনাময় রুট চালু, বিদ্যমান রুটের বাণিজ্যিক পুনর্মূল্যায়ন এবং লাভজনক রুট আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সার্ভিস ট্রান্সফরমেশনে ডিজিটাল সেবা, সময়ানুবর্তিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি এয়ারলাইন্স পরিচালনা নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদার উপযুক্ত একটি আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক জাতীয় ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার গড়ে তোলা।
বিশ্বের বড় এয়ারলাইন্সগুলো মিক্সড ফ্লিট পরিচালনা করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস যুক্ত করার পরিকল্পনা কত দূর এগিয়েছে? সম্ভাব্য সময়সীমা কী?
আফরোজা খানম: আমরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ধীরে ধীরে একটি আধুনিক মিক্সড ফ্লিটে রূপান্তর করছি। এ লক্ষ্যে বোয়িংয়ের ১৪টি এবং এয়ারবাসের ১০টি— মোট ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার বিপরীতে ৪০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।
আমাদের লক্ষ্য শুধু বহর বাড়ানো নয়; জ্বালানি সাশ্রয়ী, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিযোগিতাসক্ষম ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। উড়োজাহাজগুলো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বহরে যুক্ত হবে।
বিমান খাতে স্বচ্ছতা, ক্রয় প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কী ধরনের সংস্কার আনছে?
আফরোজা খানম: বিমান খাতে আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং, আর্থিক অডিট, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়ন জোরদার করা হয়েছে।
আমাদের নীতি হলো— যোগ্যতা, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি দক্ষ ও আধুনিক বিমান খাত গড়ে তোলা, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জনগণ আন্তর্জাতিক মানের সেবা পায়।
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি, অব্যবস্থাপনা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের সংস্কার কার্যক্রম চলছে?
আফরোজা খানম: যাত্রীদের অভিযোগগুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য— বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা।
ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ চালু করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত তদারকি করছেন। লাগেজ নিরাপত্তায় ভিজিল্যান্স টিম, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম (বিআরএস) চালু করা হয়েছে। ফলে লাগেজ ডেলিভারির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
সেবার মান আরও উন্নত করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম, নতুন জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা দ্রুত, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান। আমরা শুধু সমস্যার সমাধান করছি না, বাংলাদেশের বিমানবন্দরে একটি নতুন ‘সেবা-সংস্কৃতি’ গড়ে তুলছি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে এবং যাত্রীরা কী ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন পাবেন?
আফরোজা খানম: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। যাত্রীরা আরও দ্রুত চেক-ইন, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি আধুনিক এরোব্রিজ, অত্যাধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম এবং বিশ্বমানের পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
এটি শুধু একটি নতুন টার্মিনাল নয়; বরং বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি, যা দেশকে একটি আধুনিক রিজিওনাল এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার কী কী কৌশল নিচ্ছে?
আফরোজা খানম: বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সরকার তিনটি বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক প্রচার ও ব্র্যান্ডিং। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ট্যুরিস্ট হ্যান্ডবুক, ট্যুরিস্ট ম্যাপ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরছে।
দ্বিতীয়ত, পর্যটকবান্ধব ভ্রমণ ব্যবস্থা। ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং পর্যায়ক্রমে ই-ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন। নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত পর্যটন সেবা নিশ্চিত করে পর্যটকদের জন্য উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা হচ্ছে।
আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি বিশ্বস্ত, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে নতুন কোনো ব্র্যান্ডিং বা প্রচারণার পরিকল্পনা আছে কি?
আফরোজা খানম: অবশ্যই; আমরা বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণে প্রচার ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম আরও জোরদার করছি। প্রচলিত ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ট্যুরিস্ট হ্যান্ডবুক, ট্যুরিস্ট ম্যাপ, ব্র্যান্ড বুক এবং টিভিসির পাশাপাশি এখন ডিজিটাল প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডকুমেন্টারি, শর্ট ভিডিও ও রিল, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং আন্তর্জাতিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে বিশ্ব পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় ও পরিচিত গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
পর্যটন খাতে বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কী ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে? ইতোমধ্যে কোনো বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে কি?
আফরোজা খানম: সরকার পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নীতিগত সহায়তা, নীতিমালা সহজীকরণ, সহজ শর্তে ঋণ, কর-সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে কক্সবাজারের হোটেল শৈবাল কমপাউন্ডে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা নির্মাণে পিপিপি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া, সিলেট বিমানবন্দরের সন্নিকটে পর্যটন করপোরেশনের স্থাপনাকে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সঙ্গে কার্যক্রম চলমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ (IBA) ইতোমধ্যে এর চাহিদা ও বিপণন সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে।
মেডিকেল, স্পোর্টস ও ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
আফরোজা খানম: হ্যাঁ। বাংলাদেশে মেডিকেল, স্পোর্টস ও ধর্মীয় পর্যটনসহ বিশেষায়িত পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার পর্যটনের বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, ওয়াটার ট্যুরিজম, রন্ধনশৈলী এবং সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে ভিসা পলিসি-২০২৬ -এ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত বিদেশিদের জন্য মেডিক্যাল ট্যুরিজম (এমটি) ভিসা, তাদের সহযাত্রীদের জন্য মেডিক্যাল অ্যাটেন্ডেন্ট (এমএ) ভিসা এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে আগত বিদেশিদের জন্য রিলিজিয়াস ট্যুরিস্ট (আরটি) ভিসার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্পোর্টস ট্যুরিজমসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেরও বিকাশ ঘটানো হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতকে কোথায় দেখতে চান?
আফরোজা খানম: আমাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন এবং পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এভিয়েশন খাতে বিশ্বমানের বিমানবন্দর, উন্নত যাত্রীসেবা ও শক্তিশালী আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে চাই। আর পর্যটন খাতে টেকসই অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, ডিজিটাল সেবা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বহুমুখী পর্যটনপণ্য গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এই খাত দুটি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের কোনো এয়ারলাইন্সকে কি দীর্ঘ-পাল্লার নতুন গন্তব্যে পরিচালনার জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে?
আফরোজা খানম: সরকার বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, বাজার চাহিদা, দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিবহন চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাহরাইন, মালে, জাকার্তা, সিউল, সিডনি, কুনমিং ও নিউইয়র্কসহ কয়েকটি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় বিবেচনাধীন রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের এভিয়েশন খাতকে আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংযোগ ও যাত্রীসেবা আরও শক্তিশালী করা।
আগামী এক বছরে এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতে জনগণ বড় কোন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবে কি?
আফরোজা খানম: আমার বিশ্বাস, আগামী এক বছরে জনগণ এভিয়েশন ও পর্যটন— উভয় খাতেই দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এভিয়েশন খাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি, উন্নত যাত্রীসেবা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নের সুফল মানুষ অনুভব করবেন। অন্যদিকে, পর্যটন খাতে ভিসা পলিসি ২০২৬ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, নতুন পর্যটন পণ্যের বিকাশ, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
আমাদের লক্ষ্য— জনগণ যেন দ্রুত, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা পান।
বর্তমানে হজ ফ্লাইটে মূলত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করছে। ভাড়া কমানো ও সেবার মান বাড়াতে তৃতীয় কোনো এয়ারলাইন্সকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি?
আফরোজা খানম: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এবং ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখা। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের হজের জন্য বিমানভাড়া আরও ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে, যা হজযাত্রীদের বড় স্বস্তি দিয়েছে।
আমরা কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সকে অগ্রাধিকার দিই না। সৌদি আরবের নীতিমালা, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে পারলে যেকোনো যোগ্য এয়ারলাইন্স হজ ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে যাত্রীরা আরও উন্নত সেবা ও যৌক্তিক ভাড়ার সুবিধা পাবেন।
আমাদের লক্ষ্য আগামী দিনগুলোতেও হজযাত্রীদের জন্য আরও সাশ্রয়ী ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা।